স্টাফ রিপোর্টার:
ঢেঁকির আওয়াজ,চুলার ধোঁয়া,রান্নাঘরে নারীদের ব্যস্ততা,ভোরে রস বাহকদের আনা-গোনা এখন আর অহরহ দেখা মেলা ভার। শীতের পিঠা-পায়েস,বাড়ি ভর্তি আত্মীয়-স্বজন,শিশুদের হৈ-হুল্লোড় আর চোখে পড়ে না। বলা চলে গ্রাম্য কিংবা নিভৃত পল্লীর যে যে চিরাচরিত সংস্কৃতি আর চোখে পড়ে না। যেখানে গ্রাম বাংলার এসব সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে,সেখানে মানিকগঞ্জের ঘিওরে পালিত হলো কৃষক-কৃষাণীদের পিঠা উৎসব ও লোকজসংস্কৃতি। কালের আবর্তে হারিয়ে যায়নি এই পিঠা উৎসব। আবহমান গ্রাম বাংলার চিরাচরিত সংস্কৃতিকে আজও ধরে রেখেছে ঘিওরের কৃষক সমাজ।
প্রতিবছর পৌষের বিদায় ঘন্টা বাজতে না বাজতেই শুরু হয়ে যায় পিঠা উৎসবের ধুম।মাঘের শুরুইে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব। গেল বৃহস্পতিবার,মাঘ মাসের ১ তারিখে ঘিওর উপজেলার পিঠা উৎসব শুরু হয়।শেষ হয় শুক্রবারে। উপজেলার বালিয়াখোলা ইউনিয়নের সাইংজুড়ী মাঠে স্থানীয় কৃষক স্কুল সমবায় সমিতির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ পিঠা উৎসবে বিভিন্ন পেশার লোকজন অংশ গ্রহণ করে। তাছাড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন থেকে আদর্শ কৃষক-কৃষাণী অংশ গ্রহণ করে। কৃষক-কৃষাণীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য দিয়ে চিতই,দুধ চিতই,ভাপা,পাটি সাপটাসহ বিভিন্ন প্রকার পিঠা তৈরি করে উৎসবে প্রদর্শন করে। কৃষাণী ডালিয়া জানান,নিজেদের উৎপন পণ্য দিয়ে পিঠা তৈরি করে পিঠা উৎসবে আসা অনেকটা আনন্দের। এতে আমরা বেশি করে কৃষিতে অবদান রাখার আগ্রহ ফিরে পাচ্ছি।
সাইংজুড়ী কৃষক স্কুল সমবায় সমিতির সভাপতি দুলাল মিয়া সংবাদ মাধ্যমকে জানান,আমরা বাঙ্গালীর সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে চাই। নিজেদের উৎপাদিত পণ্য দিয়ে পিঠা উৎসব তারই প্রতিফলন মাত্র। প্রাকৃতিক কৃষি খামারের পরিচালক দেলোয়ার জাহান জানান,পৌষ শেষ হয়ে মাঘে যে প্রকৃতির নবজাগরণ ঘটে পিঠা উৎসব তারই বহি:প্রকাশ মাত্র। কৃষক স্কুল যে পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে তা নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আমাদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।