শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
শ্রীনগর থানা থেকে মামলার এজাহার নামীয় আসামি এক যুবদল নেতাকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের প্রায় ২শ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার বিকালে শ্রীনগর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
এদিকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ব্লকেড করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এতে এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজার উভয় প্রান্তে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় এ ব্লকেড করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে রোড ব্লকেড উঠিয়ে নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. তারিকুল ইসলামকে শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীনগর ধাইসার এলাকা থেকে শ্রীনগর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। একটি মারামারির ঘটনায় আদালতের নির্দেশে গত ১৯শে নভেম্বর তারিকুলের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
যুবদলের সদস্য তারিকুলকে গ্রেপ্তারের খবর শুনে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী থানায় ছুটে আসে। তারা তারিকুলকে ছেড়ে দেয়ার জন্য শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ কাইয়ূম উদ্দিন চৌধুরীর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে এবং নানা রকম সেøাগান শুরু করে। পরবর্তীতে রাত সোয়া ১০টার দিকে তারা থানার সেকেন্ড অফিসারের কক্ষ ভাঙচুর করে এবং পুলিশকে মারধর করে জিয়ার সৈনিক সেøাগান দিয়ে তারিকুলকে থানা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাব্যাপী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দু’টি গাড়িতে করে সেনা সদস্যরা শ্রীনগর থানায় এসে পুলিশের সঙ্গে সহযোগী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আসামি তারিকুলকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করে। তবে আসামি তারিকুলকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পরদিন (গতকাল শনিবার) শ্রীনগর থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে শ্রীনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন মৃধা জেমস, সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মাসুদ রানা, ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম শুভ, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক ইমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এমদাদুল ইসলাম রজিন, বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন মিলন, জহিরুল ইসলাম মামুনসহ এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৬০/১৭০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়,জড়িতদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।