পাবনায় কলেজছাত্রকে অপহরণ করে যুবদল নেতাদের ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

পাবনা প্রতিনিধিঃ
পাবনা সদরের চরতারাপুরে সোহাগ ইসলাম (২৫) নামে একজন কলেজ শিক্ষার্থীকে শটগান ঠেকিয়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন

বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত সোমবার রাত ১১টার দিকে চরতারাপুর ইউনিয়নের শুকচোর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অপহরণের প্রায় ৬ ঘণ্টা পর রাত ৪টার দিকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। অপহৃত সোহাগ চরতারাপুর ইউনিয়নের শুকচর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য তোফাই মেম্বারের ছেলে। তিনি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে অনার্স শেষ করে ঢাকায় চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর গুলিবিদ্ধ রফিকুল ইসলাম অন্তু একই গ্রামের মোফাজ্জল প্রামাণিকের ছেলে। সেও পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে পড়াশোনা করেন। জানা গেছে, ইউনিয়নের শুকচোর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন তোফাই দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করে বাড়িতে টাকা রেখেছিল। দু-একদিনের মধ্যে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। গতরাত ১১টার পর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সোহাগ। এ সময় কয়েকজন যুবক এসে প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শটগান ঠেকিয়ে তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। তারা ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক কুতুব উদ্দিন, বিএনপি পরিচয় দেয়া মুতাহার হোসেন মোতাই ও রেজাউল করিম। অপহরণের সময় তাদের বাধা দিতে গেলে তার চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম অন্তুকে মোতাহার হোসেন মোতাই প্রথমে শটগান দিয়ে আঘাত করে। পরে গুলি করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার মাথায় একটি গুলি রয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। এরপর রাত ৪টার দিকে পুলিশ চরতারাপুরে অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন।

এ ব্যাপারে পুলিশ জানায়, জড়িতদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।

শিরোনাম