নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
স্থান পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল চত্বর। বুধবার (৯ জুলাই) বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা। হঠাৎ হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় ঘটে যায় এক ভয়াবহ ঘটনা। শতাধিক লোকের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, পিটিয়ে ও পাথর ছুড়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহের ওপর চলে নৃশংস উন্মত্ততা।
এ হত্যাকাণ্ডের পুরো দৃশ্য ধরা পড়ে সিসিটিভি ফুটেজে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সোহাগকে প্রথমে নির্মমভাবে মারধর করে, পরে কুপিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর দুই যুবক তার নিথর দেহ রাস্তায় টেনে নিয়ে এসে একের পর এক লাথি, ঘুষি ও বুকের ওপর লাফিয়ে বর্বরতা চালায়। পরে তার মাথা ও শরীরের ওপর ছোড়া হয় বড় বড় পাথর।
ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন মাহমুদুল হাসান মহিন, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির, নান্নু, রিয়াদ, টিটন গাজী ও লাকী। ইতোমধ্যে র্যাব ও পুলিশ চার জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভিডিও দেখে আমরা শিউরে উঠেছি। এ ধরনের উগ্রতা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।’