মানিকগঞ্জে আমার নিউজ পত্রিকা অফিসে হামলা,লুটপাট

সংবাদ জমিন,অনলাইন ডেস্ক:
আমার নিউজ পত্রিকা অফিসে হামলা,লুটপাট। মানিকগঞ্জ থেকে প্রকাশিত বহুল পরিচিত দৈনিক আমার নিউজের পত্রিকা অফিসে ঢুকে মবসৃষ্টি করে সম্পাদক ও প্রকাশকের সহধর্মিনী ও পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ফরিদাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৩০ জনের একটি চক্র প্রথমে ৫ লাখ টাকা দাবী করে না পেয়ে পরনের কাপর ধরে টানাটানি করে এবং বিবস্ত্র করে একজনকে দিয়ে বাহির থেকে ভিডিও করতে থাকে। স্থানীয়দের ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দাবীকৃত টাকা না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এসময় অফিসে থাকা এক লাখ পঞ্চান্ন হাজার টাকা, আমার স্ত্রীর স্বর্ণের দুইটি কানের দুল, গলায় স্বর্ণের চেইন, এদুইটি ডিএসলার ভিডিও ক্যামেরা, দুইটি এনড্রয়েট মোবাইল ফোন সহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পত্র লুট করে নিয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে মবকারীদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। জানার চেষ্টা চলছে। অনেকের তথ্যমতে নিষিদ্ধঘোষিত পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সরকারের প্রধান সহযোগীর নেতৃত্বে এক মব হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে আমার নিউজের বিভিন্ন প্লাটফর্মে সংবাদ প্রচারের জেরে অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে তুই বেশি বাড়াবাড়ি করতাছিস, উল্টাপাল্টা নিউজ করা বন্ধ না করলে তোর ও তোর পরিবারের ছবি দিয়ে মান সম্মান নষ্ট করবো, তখন তোর রিতা- মিতাও তোকে বাচাতে পারবে না বলে হুমকি দেয়। পরে আমি এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি জিডি করি।

মবের স্বীকার হওয়া ফরিদা জানান,গত (৭ মে) বৃহস্পতিবার একই ভবনের তৃতীয় তলায় পশ্চিম পাশের ফ্লাটে একটি নতুন ইনসুরেন্সের কোম্পানির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ ইন্সুইরেন্স কাজে জরিত ফরিদাও ঐ মিটিং উপস্থিত ছিলেন। নতুন অফিসে ওয়াসরুম ভালো না থাকায় মিটিং আসা কয়েকজন কর্মকর্তার অনুরোধে অজু করার জন্য আমার নিউজ অফিসের ওয়াসরুম ব্যবহারের অনুমতি দেয়। দুইজন ওয়াসরুম ব্যবহার করে নামাজ পড়ে চলে যায়। বাশার নামে একজন কর্মকর্তা ভিতেরে ওয়াসরুমে ছিলো। পরে ফরিদা তিন তলার অফিস থেকে দুই তালায় নিজ অফিসে ঢুকতেই একদল মব সৃষ্টিকারী অনুমতি ছাড়া অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে দুইজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিবশ্র করে বাহির থেকে ভিডিও করতে থাকে। পরে ভিতরে এসেও ভিডিও করে এবং দাবিকৃত টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এসময় অফিসের আলমারির ড্রয়ারে থাকা এক লাখ পঞ্চান্ন হাজার টাকা, দুইটি ডিএসলার ক্যামেরা ও দুইটি এনড্রয়েট মোবাইল সহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক আকরাম হোসেন বলেন, আমি ২০১০ সাল থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমার বাসা শহরের শহীদ রফিক সড়কের কলিমস টাওয়ারের ৭ তালায় এবং আমার নিউজ পত্রিকা অফিস এক ভবনের দ্বিতীয় তলায়। আমার স্ত্রী ৮ মাসের গর্ববতী থাকায় বাসায় উঠতে লিপ্ট না থাকায় উপরে উঠতে প্রচন্ডভাবে শ্বাস কষ্ট হচ্ছিল।

তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন ভাড়া বাসা নেওয়ার আগ পর্যন্ত সাময়িকভাবে আমার নিউজের অফিসের কার্যক্রম হস্তান্তর করে মানিকগঞ্জ সম্পাদক পরিষদের অফিস থেকে চালিয়ে যাচ্ছি। আর আমার ব্যক্তিগত অফিস এক সপ্তাহ যাবৎ বাসা হিসেবে ব্যবহার করছি। আমি মানিকগঞ্জ সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে কক্সবাজার ভ্রমনে থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মবসৃষ্টকারী ও কতিপয় তথাকথিত আন্ডার গাউন্ডে ফেক ফেসবুক আইডি খুলা ভিউ ব্যবসায়ীরাদ নানা মিথ্যা ও কাল্পনিক মনগড়া তথা প্রচার করছে। সমাজের সচেতন মহল ও আমার সাংবাদিক মহলের সহযোগিতা কামনা করছি। এবিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শিরোনাম