মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়,রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও

সংবাদ জমিন ডেস্ক:
মানিকঞ্জের এতিহ্যবাহী হাজারী গুড়,রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও । এর যশ খ্যাতি এতই যে এক নামইে বাংলাদেশে সর্বত্র এর পরিচিতি।যুগ থেকে যুগান্তরে এর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বেশ কিছু পরিবার। হাজীগুড়ের স্বাদের সাথে কোন কিছুর জুড়ী মেলা ভার। আর এর কারণেই এই গুড়ের যশ খ্যাতি শুধু দেশে নয় এর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশেও।

জানা গেছে,জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকায় খেজুরের রস থেকে হাজাড়ী গুড় তৈরি হয়।শীত আসলেই শুরু হয় গাছীদের আনা-গোনা।গাছ জোড়া,তা থেকে রস বের করে গুড় তেরি করা,এসব নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে গাছিরা। উপজেলার ঝিটকাসহ কয়েকটি ইউনিয়নের ৩০-৩৫টি গাছি পরিবার মানিকগঞ্জের হাজারীগুড়ের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।ইতিহাসের পাতায় এই গাছি পরিবারগুলো অম্লান,অক্ষয় হয়ে থাকবে।বাংলাদেশে শীত এলেই শুরু হয় খেজুরের রস সংগ্রহ এবং সেই রস থেকে বিশেষ উপায়ে তৈরি হয় খেজুরের গুড়। দেশের সবচেয়ে বেশি আলোচিত, সুস্বাদু ও দামি হাজারী গুড় তৈরি হয় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকায়। স্বাদ আর গন্ধে এই গুড়ের জুড়ি মেলা ভার। যার সুখ্যাতি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে বহু দূরে।

অনেক বছর আগের কথা। উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা শিকদার পাড়া গ্রামে মো. হাজারী নামে এক ব্যক্তি এই গুড়ের প্রবর্তক। তার নামানুসারেই এই গুড়ের নাম হয়েছে হাজারী গুড়। প্রথম কাটার খেজুর রস দিয়ে তৈরি হয় হাজারী গুড়। আগের দিন বিকালে খেজুর গাছের ছাল কেটে চেঁছে বেঁধে দেওয়া হয় হাঁড়ি। তারপর ভোর বেলায় সেই রস সংগ্রহ করে জ্বাল দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি হয় হাজারী গুড়। এক কেজি হাজারী গুড় তৈরি করতে প্রয়োজন হয় ১২ কেজি রসের। প্রতিকেজি গুড় বিক্রি হয় ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায়।উৎপাদিত গুড় কেনাবেচা হয় উপজেলার হাটগুলোতে। সেখান থেকে কিনে পাইকাররা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করে। এ গুড় বর্তমানে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। অর্জন হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে স্থানীয় এ পণ্যটি।

উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে মোট ৮৮৮৬টি খেজুর গাছ রয়েছে। বছর গেলে এ সংখ্যা কম বেশি হয়ে থাকে। এসব খেজুর গাছের রস থেকেই তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়। গতবছর হাজারী গুড় উৎপাদন হয় ১২ হাজার কেজি যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি। উৎপাদিত গুড় কেনাবেচা হয় উপজেলার হাটগুলোতে। সেখান থেকে কিনে পাইকাররা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করে। বেশি লাভজনক হওয়ায় এ গুড় বর্তমানে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। অর্জন হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে স্থানীয় এ পণ্যটি। ভবিষ্যতে এ গুড় বিদেশে রপ্তানি করে ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা ঝিটকা শিকদার পাড়া গ্রামের গাছি মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমরা যারা হাজারী গুড়ের কারিগর আছি তারা বছরে প্রায় ৩০০ কেজি হাজারী গুড় তৈরি করে থাকি এবং প্রতিকেজি হাজারী গুড় বিক্রয় করি ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজি। এছাড়াও লাল পাটালি এবং ঝোলা গুড়ও বিক্রয় করি এতে দেখা যায় সবমিলিয়ে প্রতি গাছি প্রায় ৭ লাখ টাকার গুড় বিক্রি করি। এছাড়াও গাছ, গাছি ও জ্বালানি দিয়ে মোট খরচ হয় প্রায় ৪ লাখ টাকা। বছর শেষে আমাদের অনেকের দুই, আড়ায় অথবা তিন লাখ টাকা লাভ থাকে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ঝিটকার হাজারী গুড় খুবই সুস্বাদু। শীতের নানান পিঠাপুলি তৈরিতে এর জুড়ি নেই। এজন্য বিদেশেও পাঠানো হয় এই গুড়। প্রতিবছরের মতো এবারও গুড়ের ভালো দাম পাচ্ছেন গাছিরা। ফলে উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এখন চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে বিক্রির পাশাপাশি শিক্ষিত যুব-সমাজ অনলাইনে গুড় বিক্রি করছে। সবমিলিয়ে হরিরামপুরে খেজুর গুড়ে এবার প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি বেচাকেনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

শিরোনাম